তথ্যাধিকার বাস্তবায়ন আন্দোলন: নতুন ধারার একটিভিজম সময়ের দাবী এখন

তথ্যাধিকার বাস্তবায়ন আন্দোলন: নতুন ধারার একটিভিজম সময়ের দাবী এখন

একসময় বাংলাদেশে কোনো ‘তথ্য অধিকার আইন’ ছিল না। বছরের পর বছর দেশের মানবাধিকার কর্মীরা, সাংবাদিকেরা এই আইনটির জন্য দাবী করে গেছেন। এখন আমাদের এই আইনটি আছে। এবং এর মাধ্যমে জনগণের তথ্য জানবার অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সংযোজিত হয়েছে। শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও জনগণের ‘তথ্য জানবার অধিকার’ আসলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অধিকার। কিন্তু এই অধিকারটির আইনী স্বীকৃতিই শেষ কথা নয়। এর ব্যাপক প্রয়োগ এবং চর্চাই হল আসল। তাই, আমাদের দেশেও এই তথ্যাধিকার যতো বেশী প্রয়োগ হবে ততো বেশী এই আইনটি – দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পথে – সাধারণ জনগণের একটি হাতিয়ার হয়ে উঠবে। আর সব হাতিয়ারের মতোই এই হাতিয়ারটিরও প্রকৃত শক্তি তার ব্যবহার আর প্রয়োগেই।
আমাদের পাশের দেশ ভারতেও এমন একটি আইন রয়েছে। সেখানে এই আইনকে ঘিরে এক নতুন ঘরানার একটিভিজম গড়ে উঠেছে; ভারত সরকারকে নানান বিষয়ে স্বচ্ছ হতে বাধ্য করে তুলছে সেখানকার জনগণ।

আমি মনে করি আমাদের দেশেও এই ঘরানার একটিভিজম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। এটা দরকারী, এটা সম্ভব।

হ্যাঁ এই আইনের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, তা নিয়ে অনেক সমালোচনাও আছে। আইনটিতে এমন অনেক ‘অনুমোদিত ব্যতিক্রম’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা প্রায়ই অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয় তথ্যের জন্য আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দিতে। পদ্ধতিগত অনেক জটিলতাও রয়েছে আইনটির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। কিন্তু এটা মনে হয় আশা করাই যায় যে- প্রয়োগের মধ্য দিয়ে সকল স্তরে আইনটির অপরিহার্যতার উপলদ্ধিই ধীরে ধীরে বাধাগুলো নির্মূলে সহায়ক হয়ে উঠবে একদিন।

পৃথিবীর কোনো দেশেই ক্ষমতাসীনরা জনগণের হাতে তাদের শাসন সংশ্লিষ্ট তথ্য তুলে দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে না। একই ধারায়, কেবল আইন রয়েছে বলেই আপনা আপনি বাংলাদেশের সরকার কিংবা প্রশাসনও জনগণের হাতে সানন্দে সমস্ত তথ্য তুলে দিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে সেটা আশা করা যায় না। এখানেই আসলে আমরা ভূমিকা রাখতে পারি। আমরা যারা সাধারণ জনগণ, তাদেরই এই অধিকারকে কাজে লাগাতে, একে বুঝে নিতে হবে। স্পষ্ট বুঝিয়ে দিতে হবে এর অপরিহার্যতা। বুঝিয়ে দিতে হবে – ভিক্ষা চাইতে আসিনি, এসেছি তথ্য জানতে। বুঝিয়ে দিতে হবে – এই জানতে চাওয়া এবং জানতে পারা আমাদের অধিকার। আর আমাকে/আমাদেরকে জানতে দেয়া আপনার (প্রশাসনের) আইনগত দায়িত্ব।

এবার একটি উদাহরণ সবার সাথে ভাগাভাগি না করলেই নয়, যা অত্যন্ত উদ্দীপনামূলক। সম্প্রতি একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কিছু তদন্ত কমিটি হয়েছিল। কতদূর কি হয়েছে সে সব তদন্তের, আদৌ কার্যকর কিছু হচ্ছে কি না তা জানার তাগিদ থেকে সহযোদ্ধা ওমর শেহাব এই আইনটির শরণাপন্ন হন। এর পর কি ঘটেছিল, জানতে এই লেখাটি পড়ুন মন দিয়ে:
‘প্রশ্নপত্র ফাঁস: তথ্য অধিকার আইনের অভিজ্ঞতা’, বিডিনিউজ২৪, মতামত বিশ্লেষণ, ৮ অক্টোবর ২০১৫ (লিন্ক)

আমার বিশ্বাস – লেখাটি আপনাকে আশাবাদী করবে। আর কিছু না হোক – অন্তত একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যে অক্ষমতাগুলো প্রতিনিয়ত আমরা অনুভব করি – তার অন্তত একটি কাটিয়ে ওঠার পথে একটি হলেও নতুন পন্থা হয়তো খুঁজে পাবেন আপনি।